ইউটিউব থেকে টাকা ইনকাম করার সঠিক নিয়ম || বিস্তারিত জানুন


ইউটিউব থেকে টাকা ইনকাম

ইউটিউব থেকে টাকা ইনকাম করার সঠিক নিয়ম

 

বর্তমান সময়ে ভিডিও কনটেন্ট এর জনপ্রিয়তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ইউটিউবের জনপ্রিয়তা। ইউটিউব থেকে যে টাকা ইনকাম করা যায় এই বিষয়টার কমবেশি আমরা সবাই জানি। তবে বর্তমান সময়ে ইউটিউব থেকে টাকা উপার্জন করার অসংখ্য অসংখ্য পদ্ধতি রয়েছে। তাহলে চলো জেনে নেওয়া যাক ইউটিউব থেকে টাকা ইনকাম করার সঠিক নিয়ম পাশাপাশি কি কি পদ্ধতির মাধ্যমে ইউটিউব থেকে টাকা উপার্জন করা যায়। আপনি যদি একজন ইউটিউবার হয়ে থাকেন অথবা ইউটিউবার হতে চান তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার অনেক অনেক বেশি উপকার আসবে পাশাপাশি নতুন নতুন অনেক কিছু জানতে ও শিখতে পারবেন। তাহলে চলুন বেশি কথা না বলে মূল বিষয় শুরু করা যায়।

 

বর্তমান সময়ে কমবেশি প্রতিদিন সারাবিশ্বে ৫০০ কোটি মানুষ ইউটিউবে ভিডিও দেখছেন। এক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, একজন দর্শকের ইউটিউব দেখার গড় সময়কাল প্রায় ৪০ মিনিট। দর্শক বিবেচনায় ইউটিউব পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম সাইট। বিশ্বের সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলোর মধ্যেও ইউটিউব দ্বিতীয়। পাশাপাশি ইউটিউব পৃথিবীর দ্বিতীয় সবথেকে বড় সার্চ ইঞ্জিন।

 

ইউটিউবের মাধ্যমে ঘরে বসেই অনলাইনে আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অনেকেই ইউটিউবকেই পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন এবং তারা সফল ইউটিউবার হচ্ছেন। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই ধৈর্য ধরতে হবে। কারণ ইউটিউব থেকে আয় করতে অনেক ধৈর্যের প্রয়োজন। চ্যানেল খোলার সাথে সাথেই আয় হয় না। মোটামুটি একটা ইউটিউব চ্যানেল থেকে টাকা উপার্জন করার জন্য আপনাকে মিনিমাম ৫ মাস থেকে ১ বছর সময় ব্যয় করতে হবে আমি মনে। সম্পূর্ণ বিষয়টা আপনার কাজের উপর নির্ভর করে আপনি চাইলে প্রথম মাস থেকে টাকা উপার্জন করতে পারেন যদি অনেক ভালোভাবে কাজ করতে পারেন তাহলে কিন্তু।


ইউটিউব থেকে টাকা ইনকাম করার পদ্ধতি

 

কিছু মানুষ মনে করে ইউটিউব থেকে শুধু গুগল এডসেন্স অথবা ইউটিউব মনিটাইজেশন এর মাধ্যমে টাকা উপার্জন করা যায় আর কোন রাস্তা অথবা পদ্ধতি নেই। তবে এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। বর্তমান সময়ে ইউটিউব থেকে টাকা ইনকাম করার একাধিক উপায় রয়েছে। ইউটিউব থেকে আপনি যে সকল মাধ্যমে টাকা উপার্জন করতে পারবেন তা নিচে তুলে ধরা হলো এখনি দেরি না করে দেখে নিন। যেমনঃ

 

প্রথমইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম
দ্বিতীয়প্রোডাক্ট বিক্রি
তৃতীয়ভিডিও এডিটিং সার্ভিস
চতুর্থপ্রোডাক্ট রিভিউ ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
পঞ্চমঅনলাইন কোর্স
ষষ্ঠস্পন্সরড কনটেন্ট
সপ্তমডোনেশন

 

ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম কি ও কিভাবে কাজ করে

 

ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে শুধুমাত্র এডসেন্স নিয়ে টাকা আয় করা যায় তা নয়, এর পাশাপাশি আরো অনেক সুবিধা পাওয়া যায় ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে যুক্ত হয়ে। ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে যুক্ত হওয়ার জন্য ইউটিউব এর কিছু শর্ত আছে শর্তগুলো মেনে আপনাকে ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে যুক্ত হতে হবে।

 

ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে যুক্ত হলেই আপনার ইউটিউব ভিডিওতে যেই বিজ্ঞাপন প্রদর্শন হচ্ছে ওই বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের বিনিময়ে আপনাকে ইউটিউব এর পক্ষ থেকে টাকা দেওয়া হবে। তাছাড়াও ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে ইউটিউব প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন ফিস, সুপার চ্যাট, চ্যানেল মেম্বারশিপ প্রোগ্রাম ইত্যাদি সুবিধা পাওয়া যায়।

 

ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে যুক্ত হওয়ার জন্য আপনার ইউটিউব চ্যানেলে গত ১২ মাসে ১০০০ সাবস্ক্রাইবার ও ৪০০০ ঘন্টা ভিডিও ওয়াচটাইম থাকতে হবে। তাহলেই আপনি ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামের যুক্ত হতে পারবেন অথবা আপনার ইউটিউব চ্যানেল মনিটাইজেশন অন করতে পারবেন। আপনার ইউটিউব চ্যানেল ইউটিউব চ্যানেলটি পার্টনার প্রোগ্রামের অথবা মনিটাইজেশন এর জন্য উপযুক্ত কিনা, তা জানতেঃ

 

  • ইউটিউব স্টুডিও তে প্রবেশ করুন
  • বাম পাশের মেন্যু থেকে Monetisation এ ক্লিক করুন
  • এরপর আপনার চ্যানেলের মনেটাইজেশন এলিজিবিটি স্ট্যাটাস দেখতে পাবেন
  • আপনার চ্যানেল মনেটাইজেশন এর জন্য উপযুক্ত হলে Apply Now বাটন দেখতে পাবেন
  • আপনার চ্যানেল মনেটাইজেশনের জন্য এখনো উপযুক্ত না হলে এমন কিছু প্রদর্শিত হবে

ইউটিউব মনিটাইজেশন

 


আপনার ইউটিউব চ্যানেল যদি ইউটিউবের অফিসিয়াল এডসেন্স একাউন্ট গাইডকে সমর্থন করে, সেক্ষেত্রে আপনি এডসেন্স একাউন্ট এর একাউন্ট খুলতে পারেন। ইউটিউব চ্যানেল মনেটাইজেশন এর ক্ষেত্রে কিছু গাইডলাইন রয়েছে। যে গাইডলাইন গুলো আপনাকে সবসময় মেনে চলতে হবে ইউটিউব থেকে টাকা উপার্জন করার জন্য। ইউটিউবে যে সকল গাইডলাইন আপনাকে সবসময় মেনে চলতে হবে ইউটিউব গাইডলাইন গুলো নিচে দেওয়া হল এখনি দেরি না করে দেখে নিন। যেমনঃ

 

এড রেভিনিউ :- ইউটিউব ভিডিও এর এড রেভিনিউ পেতে হলে আপনার ভিডিও এডভার্টাইজার-ফ্রেন্ডলি হতে হবে যাতে বিজ্ঞাপনদাতারা আপনার ভিডিওতে এড শো করতে রাজি হয়। এছাড়াও এড রেভিনিউ পেতে গেলে অবশ্যই আপনার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি হতে হবে। আপনার বয়স যদি 18 বছরের নিচে হয় তাহলে আপনি আপনার বাবা অথবা মায়ের নামে গুগল এডসেন্স একাউন্ট খুলতে পারেন তাহলে আপনার কোন সমস্যা হবে না।

 

ইউটিউব প্রিমিয়াম রেভিনিউ :- কোনো ইউটিউব প্রিমিয়াম মেম্বার যদি আপনার ইউটিউব ভিডিও দেখে, সেক্ষেত্রে আপনি ওই ভিউয়ার এর সাবস্ক্রিপশন এর কিছু অংশ রেভিনিউ হিসেবে পাবেন। এই ফিচারটি ও তেমন একটা বাংলাদেশের কেউ ব্যবহার করে না। ভবিষ্যতে করলেও করতে পারে আমি মনে করি।

 

চ্যানেল মেম্বারশিপ :- চ্যানেল এর সাবস্ক্রাইবারদের কাছে মেম্বারশিপ সেল করতে হলে মিনিমাম ৩০হাজার সাবস্ক্রাইবার থাকতে হবে। আপনার ইউটিউব চ্যানেলের যদি মেম্বারশিপ চালু হয় তাহলে আপনি অনেক বেশি টাকা উপার্জন করতে পারবেন। কিন্তু আমি মনে করি এই ফিচারটি বাংলাদেশের তেমন একটা ব্যবহার করবে না।

 

সুপার চ্যাট :-  লাইভ স্ট্রিমের সময় চ্যাটে ভিউয়াররা যে অর্থ প্রদান করে সেটাকে সুপার চ্যাট বলে। তবে বাংলাদেশেত ইউটিউবে সুপার চ্যাট ফিচারটি নেই। যখন এই ফিচারটি বাংলাদেশে চালু হবে তখন আপনি বাংলাদেশ থেকে অনেক বেশি টাকা খুব সহজেই উপার্জন করতে পারবেন। আশা করি খুব দ্রুত ইপিজেডে বাংলাদেশেও চালু হয়ে যাবে।


 

ইউটিউবে প্রোডাক্ট বিক্রি করে টাকা ইনকাম

 

বর্তমান সময় বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করার মাধ্যমে ইউটিউবারদের ও পাবলিক ফিগারদের আয়ের অন্যতম উৎস হয়ে উঠছে। আপনার ইউটিউব চ্যানেলের যদি যথেষ্ট পরিমাণ ফ্যান ফলোয়িং থাকে, যারা আপনার কাছ থেকে কিনতে আগ্রহী হবে, সেক্ষেত্রে ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবদের কাছে আপনার নিজস্ব কোন পণ্য অথবা অন্যান্য কোম্পানি পণ্য খুব সহজে বিক্রি করতে বিক্রি করতে পারবেন।

 

আপনার ইউটিউব চ্যানেলও যেহেতু একটি ব্র্যান্ড, সেক্ষেত্রে বিক্রি হওয়া মার্চেন্ডাইজ এ নিজস্বতা রাখার চেষ্টা করুন। এর ফলে চ্যানেল হিসেবে আপনার প্রোমোশন হবে ফ্রিতেই। এই ভালোভাবে ভেবে দেখবেন আশাকরি আপনার অনেক অনেক বেশি উপকারে আসবে।

 

এছাড়াও আপনি ভিউয়ারদের কাছ থেকেও পণ্য নিয়ে মতামত নিতে পারেন। এর ফলে খুব সহজেই পণ্য বিক্রি করা যাবে। মার্চেন্ডাইজ বিক্রি করতে পারেন অনলাইন শপ খুলে কিংবা ফেসবুক পেজেও। আপনার ইউটিউব চ্যানেল যত বেশি ফলোয়ার হবে আপনি যত বেশি পণ্য খুব সহযোগিতা করতে পারবেন। এই কারণে সবসময় চেষ্টা করবেন জেনুইন ফলোয়ার ধীরে ধীরে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ভরে তুলতে।


প্রোডাক্ট রিভিউ ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

 

আপনি চাইলে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের যেকোনো পণ্য অথবা গ্যাজেট রিভিউ করে আপনার ইউটিউব দর্শকদেরকে দেখাতে পারেন। এটাকে মূলত বলা হয় প্রডাক্ট রিভিউ। আপনার ভিডিওটি দেখে কেউ যদি ওই পণ্যটি আপনার লিংক থেকে কিনে তাহলে আপনাকে নির্দিষ্ট কমিশন পাবেন। এটাকে বলা হয় মূলত আফিলিয়েট মারকেটিং। আপনি এতই ভিডিওতে প্রডাক্ট রিভিউ ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং খুব সহজে করতে পারবেন। ভিডিওর ভিতর মূলত পূর্ণ সম্পর্কে ভালো একটা ধারণা দিবেন পাশাপাশি ভিডিও ডিসক্রিপশন এ পণ্যটি কিভাবে কিনতে পারে পাশাপাশি কিনেছে কোন কিনার লিংক শেয়ার করবেন। এটাকে মূলত প্রোডাক্ট রিভিউ ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলে আশা করি কিছুটা হলেও ভালো ধারণা পেয়েছেন।

আরো জানুন :- ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম

বর্তমানে ইউটিউবে সকল ধরনের প্রোডাক্ট রিভিউ এর প্রচুর ডিমান্ড রয়েছে। এসব প্রোডাক্ট রিভিউ এর ডেসক্রিপশনে কেনার অ্যাফিলিয়েট লিংক প্রদান করার মাধ্যমে ভিউয়ার এর বায়িং ডিসিশন সহজ করার পাশাপাশি আপনিও কমিশন পেতে পারেন। অন্য প্রোডাক্টের পাশাপাশি আপনার নিজস্ব মার্চেন্ডাইজ এর প্রচারও করতে পারেন আপনার ভিডিও এর মাধ্যমেই।


অনলাইন কোর্স বিক্রি করে ইউটিউব থেকে আয়

 

আপনি যদি কোনো শিক্ষামূলক ইউটিউব চ্যানেল চালান, সেক্ষেত্রে আপনি যা শেখান তার সেরাটা দিয়ে তৈরি করতে পারেন অনলাইন কোর্স। এছাড়াও আপনার ভিডিও এর কোনো নির্দিষ্ট ব্যাপার যদি ভিউয়াররা শিখতে ইচ্ছুক হয়, সেক্ষেত্রে অনলাইন কোর্স সেল করা হতে পারেন ইউটিউব থেকে আপনার আয়ের একটি উৎস। বর্তমানে সারাবিশ্বে অসংখ্য ইউটিউবার নিজস্ব কোর্স ইউটিউব এর মাধ্যমে বিক্রি করছে। আমরা যদি নিজস্ব কোন অনলাইন ভিত্তিক কোর্স থাকে তাহলে আপনি আপনার অনলাইন ভিত্তিক কোর্স ইউটিউব এর মাধ্যমে বিক্রি করতে পারেন। অথবা অন্য কোন ছোট বড় প্রতিষ্ঠানের অনলাইন ভিত্তিক কোর্স আপনার ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার প্রচার করে টাকা উপার্জন করতে পারেন। এখনও যদি কোন প্রশ্ন থাকে অবশ্যই নিচে থাকা ফেসবুক কমেন্ট এর মাধ্যমে আপনার মূল্যবান মতামত আমাদেরকে শেয়ার করতে পারেন।


স্পন্সরড কনটেন্ট এর মাধ্যমে থেকে আয়

 

আপনার চ্যানেলে যদি যথেষ্ট পরিমাণ সাবস্ক্রাইবার থাকে, সেক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজ থেকেই আপনার সাথে স্পন্সরশিপ এর ব্যাপারে কথা বলার জন্য কন্ট্যাক করবে। বর্তমানে সারা বিশ্বের ছোট-বড় সব ধরনের কোম্পানি ইউটিউব এর মাধ্যমে নিজে পণ্য প্রচার নিজেদের পণ্য প্রচার করতে সবথেকে বেশি পছন্দ করে।

 

স্পন্সরড কনটেন্ট বর্তমানে ইউটিউবারদের আয়ের একটি প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূলত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য বা সার্ভিস এর প্রমোশনের জন্য ভিডিও এর নির্দিষ্ট সেগমেন্ট কিংবা সম্পূর্ণ ভিডিও অর্থের বিনিময়ে কিনে নেয়। এর পাশাপাশিও অনেক ধরনের স্পন্সরড কনটেন্ট ডিল রয়েছে। আপনার ইউটিউব চ্যানেলের যদি 50000 অথবা এক লক্ষ সাবস্ক্রাইবার থাকে তাহলে আপনি খুব সহজেই স্কলারশিপ পেয়ে যাবেন। মিনিমাম একটা ভিডিও বানানোর জন্য আপনাকে 10 হাজার টাকা থেকে 5 লক্ষ টাকা দিতে পারে যেকোনো একটি কোম্পানি।


ডোনেশন এর মাধ্যমে ইউটিউব থেকে আয়

 

আপনার ইউটিউব চ্যানেল যদি ছোট হয় এবং ইউটিউবই আপনার একমাত্র কাজ ও আয়ের উৎস হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে ফুল-টাইম ইউটিউবিং আপনার জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। হয়তো প্রথম প্রথম আপনার অনেক কম টাকা উপার্জন করবেন কিন্তু ধীরে ধীরে একটা সময় আপনার উপার্জন করা টাকা পরিমাণ অনেকগুণ বেড়ে। ইউটিউব থেকে ভালো উপার্জন করার জন্য তুলনামূলক আপনাকে এক থেকে দেড় বছর সময় দিতে হবে।

 

ছোটো কনটেন্ট ক্রিয়েটর যারা ইউটিউব থেকে অন্য উপায়ে যথেষ্ট পরিমাণ আয় করতে পারেনা, তারা সরাসরি সাবস্ক্রাইবারদের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য নিতে পারে। আপনার ইউটিউব চ্যানেলে যদি মনিটাইজেশন অন থাকে তাহলে আপনি খুব সহজেই ইউটিউবে মাধ্যমে যান আপনার চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করছে তাদের থেকে ডোনেশন নিতে পারবেন। অথবা আপনি চাইলে তাদেরকে ডোনেশনে বিনিময় প্রিমিয়াম কন্টেন দিতে পারেন। এইভাবে ডোনেশন নেওয়ার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই ইউটিউব থেকে মোটামুটি ভালো পরিমাণে টাকা উপার্জন করতে পারবেন।


ইউটিউব থেকে টাকা ইনকাম এই বিষয়ে আপনার কিছু প্রশ্নের উত্তর ও সমাধান

 

ইউটিউব প্রতি ১০০০ ভিউতে কত টাকা দেয় :- ইউটিউব প্রতি 1000 ভিউতে কত টাকা দেয় এটা আসলে কখনো সঠিকভাবে বলা সম্ভব না। এটা মূলত অনেককিছু উপর নির্ভর করে যেমন :- আপনার ইউটিউব ভিডিওর বিষয় কি, ভিডিওটি কে দেখছে ও কোথায় থেকে দেখছে ইত্যাদি বিষয়গুলো উপরে আপনার ইউটিউব ভিডিওর ইনকাম নির্ভর করে। তারপরও যদি আপনি সাধারণ একটা ধারনা নিতে চান তাহলে আমি বলতে পারি। মোটামুটি বাংলাদেশ 1000 ভিউতে আপনি ইনকাম করতে পারবেন প্রায় 0.50 থেকে 1 ডলার এর মতন মোটামুটি অনেকটাই কম বেশি হতে পারে। আশা করি এখন এই বিষয়টা কিছুটা হলেও ভালোভাবে বুঝেছেন। তারপরও যদি আপনার মনে কোন প্রশ্ন থাকে অবশ্যই নিচে থাকা ফেসবুক কমেন্ট এর মাধ্যমে আমাদেরকে জানাবেন।

 

ইউটিউব থেকে আয় কি হালাল :- আগে থেকে বলে রাখি আমি কোন বড় বক্তা না আমি শুধু আমার ব্যক্তিগত মতামত শেয়ার করতে পারি। ভিডিওতে বিজ্ঞাপন দেখানোর মাধ্যমে ইউটিউব আয় করে ও তা কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সাথে শেয়ার করে থাকে। আপনার ভিডিও বা বিজ্ঞাপনে ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক কিছু দেখালে তাতে সমস্যা হতে পারে। আপনার চ্যানেলের কনটেন্ট এবং প্রদর্শিত বিজ্ঞাপনের ব্যাপারে একজন প্রসিদ্ধ আলেমের সাথে কথা বললে আপনি এই প্রশ্নের উত্তর পাবেন। আমি মনে করি আপনি যদি আপনার ইউটিউব চ্যানেলের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন বন্ধ করে দেন তাহলে এই সমস্যাটা আর থাকবে না। আপনি বিজ্ঞাপন প্রদর্শন বাদে অন্যান্য মাধ্যম থেকে খুব সহজে টাকা উপার্জন করতে পারবেন।

 

ইউটিউব থেকে কিভাবে টাকা তুলবো :- ইউটিউব এর মাধ্যমে আপনি যেই টাকা ইনকাম করবেন ওই টাকা আপনি খুব সহজে আপনার ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে উত্তোলন করতে পারবেন। প্রতিমাসে 22 তারিখে আপনার ব্যাংক একাউন্টে আপনার ইউটিউব ইনকাম করা টাকা পাঠিয়ে দিবেন। 4 থেকে 10 দিন সময় লাগবে আপনার ব্যাংক একাউন্টে টাকা আসছে।


আমার ব্যক্তিগত কিছু মতামত আশা করি আপনাদের অনেক অনেক বেশি উপকারে আসবে। আমি নিজে একজন ইউটিউবার প্রায় গত তিন বছর ধরে ইউটিউবে কাজ করছি। মোটামুটি ইউটিউব সম্পর্কে আমার অনেক ভালো অভিজ্ঞতা ও ধারণা আছে। BD Youtube Community মাধ্যমে আমি বাংলাদেশের ইউটিউবারদের কে ইউটিউবিং অথবা ইউটিউবে কিভাবে কাজ করবে এই বিষয়টা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিখিয়ে থাকি। আপনি চাইলে আমাদের BD Youtube Community মাধ্যমে ইউটিউবে যত কাজ আছে সকল কাজ শিখতে পারেন। তাহলে এখনি দেরি না করে আমাদের BD Youtube Community অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

 

ইউটিউব বিষয়ে আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে অথবা জানা কোন আগ্রহ থাকে অবশ্যই আপনি আমাদের BD Youtube Community ফেসবুক পেজে আপনার সমস্যার কথা জানাতে। আমরা আপনাকে সবসময় সব ধরনের ইউটিউব বিষয়ে সহযোগিতা করব। অবশ্যই নিতে থাকা ফেসবুক কমেন্ট এর মাধ্যমে আপনি আপনার মূল্যবান মতামত জানাবেন তিনি আমাদের ওয়েবসাইট আপনার কাছে কি ভুল লেগেছে। আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট করে আমাদের ওয়েবসাইটে আর্টিকেলটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনি যদি কোন পরামর্শ থাকলে অবশ্যই আমাদেরকে নিচে থাকা ফেসবুক কমেন্ট এর মাধ্যমে জানাতে পারেন।

 

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

© 2019-2022 BDyoutubecommunity.com